দূর করার টিপস! মর্নিং সিকনেস

আদা হজমশক্তি বাড়াতে ও পেটের অস্বস্তি কমাতে আদার জুড়ি নেই। এটা বমি বমি ভাব কমাতে পারে বলেও গবেষণায় জানা গেছে। পানি বা চায়ে কাঁচা আদা মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। জিঞ্জার ব্রেড বা জিঞ্জার কুকিজ খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া পেপারমেন্ট টি এসমসয় ভালো কাজে দেয়।আরামদায়ক পোশাক আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক না পরলে এসময় শরীরের নানা ধরণের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

ভিটামিন ও মিনারেলস চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা কিছু খেয়ে ভিটামিন ওষূধ খাওয়াটাই বেশি ভালো। ভিটামিন বি৬ বমিবমি ভাব কমায়। এসময় আয়রন ট্যাবলেটও খেতে দেওয়া হয়। ভিটামিন সি যুক্ত কোনো পানীয় বা খাবারের সঙ্গে আয়রন ট্যাবলেট খেলে আয়রনটা শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়।

গর্ভাবস্থার খুব সাধারণ একটি সমস্যা হলো মর্নিং সিকনেস। গর্ভবতী নারীদের প্রায় অর্ধেকেরই এ সমস্যা হয়। সাধারণত গর্ভধারণের ৬ সপ্তাহ থেকে শুরু হয় মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং ১২ সপ্তাহ হতে হতে তা ঠিক হয়ে যায়।এ সমস্যাগুলো খুব গুরুতর না হলে এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

এ সমস্যা যে কেবল সকালেই হয় তা না। অনেকেরই সারাদিন ধরে বমি বমি ভাব থাকতে পারে। মর্নিং সিকনেসের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে সাধারণত এস্ট্রোজেন হরমোন লেভেল বেড়ে যাওয়া, রক্তের সুগার লেভেল কমে যাওয়া এবং এসময় বিভিন্ন কিছুর গন্ধের কারণে এ সমস্যা হতে পারে।

শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্রিয় থাকাশারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে গর্ভকালীন বমি বমি ভাব কমতে পারে। নিজেকে ব্যস্ত রাখলে মন থেকেও এ অসুস্থতা দূর হয়। বই পড়া, পাজল করা, টেলিভিশন দেখা, তাস খেলা বা কিছুটা সময় বাইরে হেঁটে এল উপকার পাওয়া সম্ভব।পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল নেওয়াসুস্বাস্থ্যের জন্য শরীর আর্দ্র রাখা জরুরি বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়। বমি বমি ভাব থাকলে সারাদিন আট গ্লাস পানিখাওয়া কষ্ট হলেও মনে রাখতে হবে, শরীরে পানি কমে গেলে এ সমস্যা আরো বাড়তে পারে। পানির সঙ্গে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ও মধু মিশিয়ে খওয়া যেতে পারে।

চিন্তাভাবনা করে খাবার খাওয়া চর্বি ও মশলাযুক্ত খাবার, ক্যাফেইন পাকস্থলির এসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার কয়েক মাস যাওয়ার পর গর্ভস্থ শিশু যখন কিছু বড় হয় তখন সে পেটের ভিতরে চাপ দেওয়ায় এমনটা বেশি ঘটে। বমি হওয়ার প্রবণতা কমাতে অল্প অল্প করে খাবার খেতে হবে। পেট খালি থাকলে বমি বমি ভাব আরো বাড়তে পারে। সকালে বিছানা থেকে ওঠার আগেই লবণাক্ত হালকা কিছু খাবার বা বিস্কুট খেলে বমি বমি ভাব কমতে পারে। সকালের নাস্তায় কলা বা অন্য কোনো ফল খেলে এতে থাকা পটাসিয়াম মর্নিং সিকনেস কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া শর্করা হিসেবে আলু বা টোস্ট খেলেও উপকার পাওয়া যায়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত স্ন্যাক্স খেলে রাতভর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক থাকবে।

গর্ভাবস্থার শুরুতেই এ ধরনের সমস্যাকে তেমন একটা খারাপ কিছু মনে করেন না চিকিৎসকরা। তবে কারো যদি এ সমস্যার সঙ্গে দুই পাউন্ডের মতো ওজন কমে যায়, রক্ত বমি হয়, দিনে চারবারের বেশি বমি হয়, একদমই তরল খাবার খেতে না পারে তাহলে অবশ্যই তাকে যেতে হবে ডাক্তারের কাছে।

প্রচুর বিশ্রামরাতে ভালো ঘুম হওয়া খুব জরুরি। দিনের বেলাতেও ঘুমানো যেতে পারে। তবে খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া ঠিক নয়। এতে বমি বমি ভাব বাড়তে পারে। সময়ের সাথে সাথে শরীরের আকৃতিতে পরিবর্তন আসে। আর তখন ঘুমের সমস্যা দূর করতে পিঠের পেছনে বালিশ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়া মোটেও ঠিক নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *